প্রোস্টাসিন কিভাবে কাজ করে?

ট্যামসুলোসিন বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া চিকিৎসায় নির্দেশিত। ট্যামসুলোসিন মূত্রথলির পেশীকে শিথিল করে এবং প্রস্রাবের গতি বৃদ্ধি করিয়ে দেয়। ফলে প্রস্রাবের বিভিন্ন অস্বস্তিকর লক্ষণগুলোর উন্নয়ন সাধন করে।

উপস্থাপন

প্রোস্টাসিন©ক্যাপসুল: প্রতিটি মডিফাইড রিলিজ ক্যাপসুলে আছে ট্যামসুলোসিন হাইড্রোক্লোরাইড ইউসপি ০.৪ মি.গ্রা. (মডিফাইড রিলিজ পিলেট আকারে)।

বিষয়বিস্তারিত
বাণিজ্যিক নামপ্রোস্টাসিন
জেনেরিকট্যামসুলােসিন হাইড্রোক্লোরাইড
ধরণক্যাপসুল
পরিমাপ0.4mg
চিকিৎসাগত শ্রেণিBPH/ Urinary retention/ Urinary incontinence
উৎপাদনকারীIncepta Pharmaceuticals Ltd, Incepta Pharmaceuticals Limited
উপলভ্য দেশIndia, Bangladesh
প্রোস্টাসিন কিভাবে কাজ করে?

ব্যাবহার

পুরুষদের বিনাইন প্রােস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিজনিত (বি পি এইচ) রােগের সেবা এবং নিয়ন্ত্রণে, মূত্রনালীর অস্বাভাবিকতার কিছু উপসর্গ যেমন মূত্রথলী থেকে মূত্র অপসারনের প্রতিবন্ধকতা, অসম্পূর্ণ মূত্রত্যাগ, মূত্রত্যাগের অপারগতা – এসকল ক্ষেত্রে রমণী ও পুরুষ উভয় এর জন্য নির্দেশিত।

বিবরণ

প্রোস্টাসিন একটি সিলেকটিভ আলফা রিসেপটর প্রতিবন্ধক। এটি মানুষের প্রোস্টেট গ্রন্থিতে অবস্থিত। আলফা১এ এড্রেনোসেপটরের প্রতি সিলেকটিভিটি প্রদর্শন করে। এসব এড্রেনোসেপ্টরের প্রতিবন্ধকতার ফলে মূত্রথলির নীচের অংশ এবং প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃত্তাকার পেশী শিথিল হয়। এর ফলে মূত্র প্রবাহের হার বৃদ্ধি পায় এবং বিপিএইচ এর লক্ষণ হ্রাস পায়। খালি পেটে খাওয়ার পর ট্যামসুলোসিন হাইড্রোক্লোরাইড ০.৪ মি.গ্রা. ক্যাপসুল প্রায় সম্পূর্ণরূপে (৯০%) পরিশোষিত হয়।

খালি পেটে খাওয়ার পর চার থেকে পাঁচ ঘন্টার মধ্যে ওষুধটি রক্ত রসে সর্বোচ্চ ঘণত্বে পৌছে এবং খাবারের সাথে গ্রহণ করলে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। ট্যামসুলোসিন হাইড্রোক্লোরাইড অতিমাত্রায় ( ৯৪% থেকে ৯৯% ) রক্তরসের আমিষের সাথে আবদ্ধ থাকে। যকৃতে সাইটোক্রোম পি৪৫০ এনজাইম দ্বারা ট্যামসুলোসিন হাইড্রোক্লোরাইড এর বিপাক ব্যপকভাবে সাধিত হয় এবং ১০% এর কম ওষুধ অপরিবর্তিত অবস্থায় মূত্রের মাধ্যমে বহির্গত হয়। সুস্থদেহে এর অর্ধজীবন প্রায় ৯ থেকে ১৩ ঘন্টা এবং রোগীর দেহে এর অর্ধজীবন ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টা।

সেবন মাত্রা ও বিধি

বিপিএইচ এর প্রকোপ ও লক্ষণের চিকিৎসায় ১টি প্রোস্টাসিন ক্যাপসুল দৈনিক একবার নির্দেশিত। প্রতিদিন একই বেলা খাবারের ১/২ ঘন্টা আগে সেবন করতে হবে। যেসব রোগীর ক্ষেত্রে ০.৪ মি.গ্রা. মাত্রায় ২-৪ সপ্তাহ সেবন করার পরও আকাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না, তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যহ প্রোস্টাসিন ক্যাপসুলের সেবন মাত্রা ০.৮ মি.গ্রা. । প্রতিদিন ০.৪ বা ০.৮ মি.গ্রা. করে কিছুদিন ব্যবহার করার পর প্রোস্টাসিন বন্ধ করা হলে দৈনিক ০.৪ মি.গ্রা. দিয়ে পুনরায় চিকিৎসা শুরু করতে হবে।প্রোস্টাসিন কিভাবে কাজ করে?

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ট্যামসুলোসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক বীর্যস্খলন এবং কদাচিৎ (১-২%) মাথা ব্যথা, দৌর্বল্য, অবস্থাজনিত লঘু রক্তচাপ, বুক বড়ফড় করা এবং সর্দি। পরিপাকতন্ত্রের গোলযোগ যেমন বমিবমি ভাব, বমি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। অতিসংবেদনশীলতা যেমন ফুসকুড়ি, চুলকানি, চামড়া লাল হয়ে যেতে পারে। অন্যান্য আলফা বকারের মত ঘুমঘুম ভাব, অস্পষ্ট দৃষ্টি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া অথবা ফুলে যাওয়া দেখা যেতে পারে। মূর্ছা যাবার ঘটনা, এনজিওইডিমা ও প্রায়াপিজম এর ঘটনা খুবই কম ক্ষেত্রে দেখা যায়।

গর্ভাবস্থাকালীন ব্যবহার

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার নির্দেশিত নয়।

সতর্কতা

অন্যান্য আলফা ব্লকারের মত ট্যামসুলোসিন দ্বারা চিকিৎসার ক্ষেত্রে রক্ত চাপ কমতে পারে, খুবই কম সংখ্যক ক্ষেত্রে মূর্ছা যাবার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনের লক্ষণ (মাথা ঘোরা, দূর্বল লাগা) দেখা দিলে সাথে সাথে কিংবা শুয়ে পড়তে হবে যতক্ষণ না অবস্থা স্বাভাবিক হয়। গাড়ী চালানো, যন্ত্রপাতি চালানো কিংবা যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যে ক্ষেত্রে মূর্ছা বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে তা পরিহার করা উচিত। ট্যামসুলোসিন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে বিপিএইচ এর মত একই রকম লক্ষণ দেখা দেয় এমন রোগের অনুপস্থিতি সমন্ধে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। তাই চিকিৎসা শুরু আগে এবং পরে নিয়মিত ডিজিটাল রেকটাল এগজামিনেশন এবং যখন প্রয়োজন পি.এস.এ. করে দেখতে হবে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বৃক্কের ক্ষেত্রে (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স মিলি/মিনিটের কম) সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে যেহেতু এ সমন্ধে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।প্রোস্টাসিন কিভাবে কাজ করে?

প্রতিনির্দেশনা

এটি ট্যামসুলোদিন হাইড্রোক্লোরাইড কিংবা ক্যাপসুলে উপস্থিত অন্য কোনো উপাদানের প্রতি সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত।

খাওয়ার নিয়ম

খাওয়ার নিয়মপ্রোস্টাসিন খাওয়ার নিয়ম ১টি ক্যাপসুল দৈনিক একবার একই সময়ে নির্দেশিত।

গর্ভাবস্থাকালীন ব্যবহার

ট্যামসুলোসিন হাইড্রোক্লোরাইড ট্যাবলেট মহিলাদের জন্য ব্যবহারের জন্য নয়। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার নির্দেশিত নয়।

ড্রাগ ইন্টারেকশন

এটেনোলল, এনালাপ্রিল, নিফেডিপিন, ডিগক্সিন অথবা থিওফাইলিনের সাথে ট্যামসুলোসিন একত্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। সিমেটিডিন রক্ত রসে ট্যামসুলোসিনের মাত্রা বাড়ায় এবং ক্রুসেমাইড কমায়। কিন্তু তার পরেও স্বাভাবিক সীমায় থাকার দরুণ সেবন মাত্রা পরিবর্তন করতে হয় না। ডায়াজিপাম, প্রোগ্রানোলল, ট্রাইক্লোরমেথায়াজাইড, ক্লোরমেডিনন, এমিট্রিপটাইলিন, ডাইক্লোফেনাক, গিবেনক্রেমাইড, সিমডাস্ট্যাটিন এবং ওয়ারফেরিন রক্তবাসে মুক্ত ট্যামসুলোসিনের মাত্রা পরিবর্তন করে না। তেমনি ট্যামসুলোসিনও মুক্ত ডায়াজিপাম, প্রোপ্রানোলল, ট্রাইক্লোরমেথায়াজাইড এবং ক্লোরমেডিননের পরিমাণ পরিবর্তন করে না। তত্ত্বগতভাবে রক্তচাপ কমানোর ওষুধের সাথে (অজ্ঞানকারী ওষুধ এবং অন্যান্য আলফা এড্রেনোসেপ্টর এন্টাপনিষ্ট) ব্যবহারের ক্ষেত্রে রক্তচাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাত্রাধিক্য

ট্যামসুলোসিন হাইড্রোক্লোরাইড ক্যাপসুলের মাত্রাধিক্যের কারণে রক্তচাপ কমে গেলে রোগীকে শুইয়ে দিতে হবে। এতে কাজ না হলে আই ভি ফ্লুইড দিতে হবে। প্রয়োজন হলে রক্তনালী সংকোচক (ভেসোপ্রেসর) দিতে হবে এবং বৃক্কের কার্যকারিতার দিকে নজর রাখতে হবে। পরিশোষণ কমানোর জন্য রোগীকে বমি করানো যেতে পারে। বেশী পরিমানে খেয়ে ফেললে গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ, একটিভেটেড চারকোল এবং অসমোটিক ল্যাক্সেটিভ যেমন সোডিয়াম সালফেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

সংরক্ষণ

৩০ °সে. এর উপরে সংরক্ষণ করা হতে বিরত থাকুন। আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

প্রতি বক্স এ যে পরিমাণ ওষুধ রয়েছে

প্রতিটি বাক্সে রয়েছে ১০টি ক্যাপসুলের ৩টি অ্যালু-অ্যালু বিস্টার স্ট্রীপ।

প্রোস্টাসিন ০.০৪ এর মূল্য

প্রোস্টাসিন এর প্রতি ক্যাপসুল এর মূল্য ১০ টাকা ।যেহুতু প্রতি বক্স এ ১০ টি ক্যাপসুল থাকে তাই এক বক্স প্রোস্টাসিন এর মূল্য ১০০ টাকা

JM Joy Mozumder
৩ বছর ধরে বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় ব্লগিং এর সাথে যুক্ত রয়েছি ।এখন পর্যন্ত ৯৫ টি এর অধিক সাইট ডিজাইন করেছি এবং বর্তমানে ১৩টা সাইট নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।JM Joy Mozumder